অবৈধ অটোরিকশার ছড়াছড়ি ঢাকায়

বাংলাদেশ

রাজধানীতে দিন দিন বাড়ছে সিএনজিচালিত অবৈধ অটোরিকশা। হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে ধূসর বা রুপালি রঙের এসব অটোরিকশা। শুধু তাই নয়, নিয়ম ভেঙে আশপাশের জেলার অটোও ঢুকছে অবাধে। একই সঙ্গে প্রাইভেট হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেওয়া সিএনজি অটোরিকশাগুলো চলছে ভাড়ায়। পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই চলছে অবৈধ এ কারবার। বিআরটিএও বিষয়টি অবগত। সিএনজি আটোরিকশা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশ ও বিআরটিএর কতিপয় কর্মকর্তা অবৈধ অটোরিকশার মধু খাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী ঢাকা শহরে সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ২০ হাজার ৮৭৯টি। এরমধ্যে ১৫ হাজারের কিছু বেশি যাত্রী সেবায় ব্যবহার হয়। আর ৫ হাজারের বেশি আছে প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা। যদিও রাজধানীতে অবৈধভাবে চলছে ঢাকা জেলা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ কয়েকটি জেলার আরও ২০ হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিকশা। যেগুলোর বেশির ভাগই কাগজপত্র এবং মিটারবিহীন।

জানা যায়, বেবিট্যাক্সি, টেম্পোর মতো টু-স্ট্রোকের গাড়িগুলো বদলে ২০০১ সালে ঢাকায় ১২ হাজার ৮২৬টি সিএনজি অটোরিকশা নামানোর অনুমতি দেয় সরকার। পরবর্তী সময়ে মিশুকের বদলে ঢাকায় নামানো হয় আরও প্রায় আড়াই হাজার সিএনজি অটোরিকশা। মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই সময় ২০০২ ও ২০০৩ মডেলের প্রায় ১৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ঢাকায় নামানো হয়, যেগুলোর আয়ুষ্কাল ছিল নয় বছর। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে সেগুলো ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানো হয়। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশাগুলো প্রতিস্থাপন শুরু হয়। প্রথমে এগুলোর চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর পরীক্ষা করে গ্যাস সিলিন্ডার খুলে রাখা হয়। এরপর চেসিস, ইঞ্জিন নম্বর ও নম্বর প্লেটগুলো গ্যাস কাটার দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। সব শেষে প্রতিটি খালি ফ্রেম এক্সকেভেটর (বুলডোজার) দিয়ে ধ্বংস করা হয়। ধ্বংস করা সিএনজি অটোরিকশার বিপরীতে মালিকদের সমসংখ্যক নতুন অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়া হয়। যদিও ঢাকায় এখনো মেট্রো ‘থ’ নম্বর প্লেট নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে অনেক সিএনজি অটোরিকশা। বিআরটিএর হিসাবে এ সিরিজের নম্বর প্লেট নিয়ে ঢাকায় কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা চলার কথা নয়। যদিও সরেজমিন ঢাকার মহাখালী, গাবতলী, গুলশান, ধানমন্ডি, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, খিলগাঁও, বনশ্রী, যাত্রাবাড়ী, জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলাচল করছে ঢাকা মেট্রো ‘থ’ সিরিজের সিএনজি অটোরিকশা।

প্রতিস্থাপন হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে পুরনো সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে, জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ফোরস্ট্রোক অটোরিকশা সিএনজি ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বিআরটিএতে পুরনো সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংস করার সময় অনেকেই সেগুলোর বডি কৌশলে সংগ্রহ করেছেন। পরে সেগুলোতে ইঞ্জিন লাগিয়ে চালাচ্ছেন। পুলিশ-প্রশাসন থেকে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের চোখের সামনে এ কাজটি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঢাকা জেলা ও আশপাশ জেলার সিএনজি অটোরিকশা এবং প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা অহরহ চলছে ঢাকা শহরে। পুলিশকে মাসিক মাসোহারা বাবদ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে চলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও অবৈধ গাড়িগুলো।

 

রাজধানীতে ‘ঢাকা মেট্রো’ ছাড়া অন্য কোনো এলাকা থেকে নিবন্ধন পাওয়া সিএনজি অটোরিকশা চালানোর কোনো সুযোগ নেই। তারপরও চলছে ‘ঢাকা মেট্রো’র বাইরের সিএনজি অটোরিকশা। সবচেয়ে বেশি চলছে ঢাকা জেলা থেকে নিবন্ধন পাওয়া সিএনজি অটোরিকশাগুলো। এর বাইরে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জ থেকে নিবন্ধন পাওয়া অসংখ্য সিএনজি অটোরিকশা ঢাকায় চলাচল করছে বলে অভিযোগ করেছেন সিএনজি অটোরিকশা চালক নেতারা।

 

অন্যদিকে বিআরটিএ বলছে, ঢাকা মহানগরীতে বাইরের সিএনজি অটোরিকশা চালানোর যেমন সুযোগ নেই, তেমনি মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা আনফিট সিএনজি অটোরিকশাও চলছে না। এই বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সিটিতে রেজিস্ট্রেশন করা সিএনজি অটোরিকশাগুলো ঢাকা শহরে চলাচল করবে। এই গাড়িগুলো বাইরে যেতে পারবে না। আবার জেলার গাড়িগুলো ঢাকা সিটিতে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু দেদার যাতায়াত করতে দেখা যায়। তবে বিআরটিএ বসে নেই। অভিযানে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা পেলেই ডাম্পিং করা হচ্ছে। অবৈধ সিএনজি বন্ধে পুলিশ আরও কঠোর ভূমিকা পালন করলে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *