চ্যাম্পিয়ন লিগে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ

খেলা

 

ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের প্রতিপক্ষ ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের স্বপ্নই কেবল দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবে ধরা দেয় না।হলোও তাই! জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে রেকর্ড ১৫ বারের মতো শিরোপা জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।শনিবার (১ জুন) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে স্কোরলাইন ২-০। রিয়ালের হয়ে গোল দুটো করেছেন দানি কারভাহাল ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র।এই ম্যাচের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার টনি ক্রুস ক্লাব ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন। ফুটবল থেকে বিদায় নেবেন তিনি জার্মানির হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা শেষে।ফাইনাল ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোট পাওয়া অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির জায়গায় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা এবং পোস্টে আন্দ্রেই লুনিনের জায়গায় থিবো কোর্তোয়া। ডর্টমুন্ড কোচ এদিন তেরজিচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের সর্বশেষ তিন ম্যাচের একাদশেই ভরসা রেখেছেন।ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল ডর্টমুন্ড। কিন্তু ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা, ভাগ্যের সহায়তা না পাওয়া এবং থিবো কোর্তোয়ায় বাধায় গোল পায়নি। ১৪ মিনিটে প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেন মিডফিল্ডার ইউলিয়ান ব্রান্ট। বাতাসে ভেসে আসা বল দারুণ রিসিভের পর তার সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন নিকলাস ফুলক্রুগ। শটটা পোস্টে রাখতে পারেননি ব্রান্ট।৭ মিনিট পর ম্যাটস হুমেলসের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে আবারও সুযোগ পেয়েছে ডর্টমুন্ড। করিম আদেয়েমি কোর্তোয়াকে সামনে একা পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে কাটাতে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। রিয়ালের ডিফেন্ডার কারভাহাল ততক্ষণে আদেয়েমির সামনে চলে আসেন। এর ২ মিনিট পরই ফুলক্রুগের বাঁ পায়ের শটটি রিয়ালের পোস্টে লেগে গোলবঞ্চিত হয় ডর্টমুন্ড।২৭ মিনিটে ব্রান্ডটের পাস থেকে আদেয়েমির বিপজ্জনক শট রুখে দেন কোর্তোয়া। সেটাও ফাইনালে! ৪১ মিনিটে আরও একটি সেভ করেন কোর্তোয়া।৩৫ মিনিটে ডর্টমুন্ড গোলকিপার গ্রেগর কোবেলেকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।বিরতির পর দেখা মেলেওন্য রিয়াল মাদ্রিদের। ৪৯ মিনিটে টনি ক্রুসের ফ্রি কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকান কোবেল। ততক্ষণে ধার বেড়েছে রিয়ালের খেলার।পরের ২০ মিনিটের মধ্যে দানি কারভাহল, ভিনিসিয়াস গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। গোল পেতে মরিয়া ডর্টমুন্ড কোচ তেরজিচ ৭২ মিনিটে আদেয়েমিকে তুলে মার্কো রয়েসকে নামান।৭৪ মিনিটে কর্নার পায় রিয়াল। ক্রুসের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন কারভাহাল। ১-০ গোলে এগিয়ে ‍যায় রিয়াল।৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস ম্যাচের শেষ গোলটি করার আগে ডর্টমুন্ড গোলকিপার কোবেল অন্তত তিনটি ভালো সেভ করেন। মাতসেনের ভুল পাস ধরে জুড বেলিংহামের পাস থেকে সহজ প্লেসিং শটে গোল করে ব্যালন ডি’অরের ওপর দাবিটা আরেকটু জোরাল করেন ভিনি।৮৫ মিনিটে ক্রুসকে তুলে লুকা মদরিচকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষের দিনে ক্রুসের মুখে তখন বিজয়ীর হাসি। বিজয়ী বটেই, ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার ছয়টি শিরোপা যার নামের পাশে, তার মুখে এমন হাসিই তো প্রত্যাশিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *